সর্বশেষ:

ধুনটে যমুনার চরে কাউন চাষে সাফল্য »

ধুনটে যমুনার চরে কাউন চাষে সাফল্য
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ধুনট উপজেলায় যমুনা নদীর বালিয়াড়িতে আপতকালীন শস্য ক্ষেত কাউন চাষে প্রতি বিঘায় প্রায় ১০ হাজার টাকা লাভের মুখ দেখছে কৃষকেরা। কম খরচে অধিক ফলন ও ভালো দাম পেয়ে কাউন চাষির মুখে হাসি ফুটে উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চরবাসীর আয়ের উত্স চাষাবাদ ও মাছ শিকার। কিন্তু যমুনা নদীতে পানি নেই। চারদিকে শুধু ধু-ধু বালুচর। তাই বন্ধ হয়েছে আয়ের উত্স। বেঁচে থাকার লড়াইয়ে বালুচরে কাউন চাষে ঝুঁকে পড়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কাউন চাষ ভালো হয়েছে। ক্ষেতের সোনালি রঙের কাউন কাটা মাড়াই শুরু করেছে কৃষকেরা।

চরের বালিয়াড়িতে কাউন চাষে বিঘাপ্রতি খরচ হয় এক হাজার টাকা থেকে ১২’শ টাকা। প্রতি বিঘায় উত্পাদন হয় ৭-৮ মণ। বাজারে প্রতি মণ কাউনের দাম ১৪’শ থেকে ১৬’শ টাকা। এতে প্রতি বিঘায় লাভ হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। তাই কাউন চাষ করে এবার বেশ লাভজনক অবস্থায় রয়েছে কৃষকেরা। এবার চরাঞ্চলে শতাধিক বিঘা জমিতে কাউনের আবাদ হয়েছে। চরবাসী ভাতের বিকল্প হিসেবে কাউন খেয়ে থাকে।

চরের মানুষ শস্যটি প্যাকেটজাত করে রাখছে। বর্ষা, বন্যা, খরাসহ বিভিন্ন আপতকালীন সময় চরবাসীর কাছে নগদ অর্থ না থাকায় সে সময় কাউনই একমাত্র ভরসা। তখন পরিবারের লোকজন কাউনের ভাত খেয়ে দিনযাপন করেন। এ ছাড়া কাউন দিয়ে সুস্বাদু পায়েস, পিঠা, নাড়ুসহ বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য তৈরি করা যায়। এ কারণে কাউনের চাহিদাও বেশি।

চরের চাষিরা জানান, চরের বালু মিশ্রিত জমিতে অন্য ফসলের তুলনায় কাউনের চাষ ভালো হয়। শস্যটি রোপণে খরচ কম, সামান্য সেচ দিলে ফলন আরো বেশি হয়। রাসায়নিক কোনো সারের প্রয়োজন হয় না। সঠিকভাবে পরিচর্যা করলে পাওয়া যায় আশাতীত ফলন। কাউন চাষে পরিশ্রম কম ও লাভ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এর চাষ বাড়ছে।

ধুনট উপজেলা উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সোবাহান বলেন, যমুনা চরের মাটি কাউন চাষের উপযোগী। কিন্তু প্রয়োজনীয় উদ্যোগের অভাবে কাউন চাষের সমপ্রসারণ হচ্ছে না। বাণিজ্যিকভাবে কাউন চাষের উদ্যোগ নিলে বদলে যেতে পারে কৃষকের ভাগ্য। কাউন একটি পুষ্টিমান সমৃদ্ধ কৃষিপণ্য। কাউন থেকে আমিষ ও খনিজ লবণের চাহিদা পূরণ হয়। তাই চরাঞ্চলে কাউনসহ বিভিন্ন অর্থকরী ফসল উত্পাদনের লক্ষ্যে কৃষকদের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

নিউজটি পড়েছেন 1237 জন

আর্কাইভস