সর্বশেষ:

জমে উঠেছে বগুড়ার দইয়ের বাজার »

জমে উঠেছে বগুড়ার দইয়ের বাজার
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বগুড়ার মানুষের ইফতারের অন্যতম একটি অনুষঙ্গ দই। তাই বছরের এ সময়টায় বাজারে দইয়ের চাহিদা অন্য যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি থাকে। এ বছরও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। সারা দিন রোজা রেখে ইফতারের সময় পিপাসা মেটাতে সাদা দই দিয়ে তৈরি ঘোল এখন অপরিহার্য হয়ে উঠেছে বগুড়ার মানুষের কাছে।

বগুড়া শহরেই কমপক্ষে ৫০টি দইয়ের দোকান রয়েছে। এছাড়া শহরের আশপাশে আরো ১০০টির মতো দইয়ের দোকান আছে। এসব দোকানে প্রতিদিন গড়ে ৬ হাজার টাকা করে বিক্রি ধরলে দইয়ের বিক্রি মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ৯ লাখ টাকা। এ বছর বাজারে সাদা দইয়ের (টক দই) চাহিদা বেশি। তাই বিকালের মধ্যেই সাদা দই শেষ হয়ে যাচ্ছে। সাদা দইয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বিক্রি হচ্ছে মিষ্টি দইও।

সরেজমিন শহরের এশিয়া সুইট মিট ও দইঘর, চেলোপাড়ার কুরানু, নবাববাড়ীর রুচিতা, কবি নজরুল ইসলাম সড়কের আকবরিয়া, মিঠাই, বিআরটিসি মার্কেটে রফাত দইঘরসহ বেশ কয়েকটি অর্ধশত শোরুম ঘুরে দেখা গেছে, দুপুর থেকেই দই কিনতে এসব দোকানে ভিড় করছেন ক্রেতারা। অনেকে আবার ফুটপাতের ভাড়ের সাদা দই কিনে বাড়ি ফিরছেন।

দইয়ের দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাটির তৈরি বিভিন্ন আকারের পাতিলে (স্থানীয় নাম ডুঙ্গি) করে দই বিক্রি করা হয়। আকারভেদে একটি পাতিলে ৫০০ গ্রাম থেকে ১ কেজি ২০০ গ্রাম পর্যন্ত দই ধরে। তাই পাতিলের আকারভেদে দামও ভিন্ন হয়। ছোট একটি পাতিল দোকানে ৫০ ও ফুটপাতে ৪০ টাকা দামে বিক্রি হয় (সাদা ও মিষ্টি দইয়ের দাম সমান)। এছাড়া বড় পাতিল ১০০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হয়।

ব্যবসায়ীরা জানান, রোজার মাসে মিষ্টি দইয়ের তুলনায় সাদা দইয়ের চাহিদা বেশি থাকে। তাই এ মাসে চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বগুড়া শহরের ‘দইঘরের’ কর্মকর্তা আবুল কালাম বণিক বার্তাকে বলেন, দই তৈরিতে একটু বেশি সময় লাগে। কিন্তু রোজার মাসে ওই সময়টুকু পাওয়া যায় না। গত শুক্রবার প্রথম রোজার জন্য ২০০টি সাদা দইয়ের পাতিল তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু সেটা দুপুরের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। গতকালও ২০০টি সাদা দইয়ের পাতিল তৈরি করা হয়। সেটিও দুপুরের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। প্রতি পাতিল দই ৮০ থেকে ৯০ টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। সে হিসাবে শুধু সাদা দই বিক্রি হয়েছে ১৮ হাজার টাকার।

বগুড়া শহরের দই ব্যবসায়ী মহরম আলী জানান, রমজান মাসে সাদা দইয়ের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। চাহিদামতো দই সরবরাহ করা যায় না। প্রতিটি সাদা দইয়ের পাতিল বিক্রি করা হয় ৯০ টাকা করে। কিছু স্পেশাল দই বিক্রি করা হয় ১২০ টাকা করে।

বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া প্রথম লেনে ভাড়ে করা দই বিক্রি করতে আসা মিথুন ঘোষ জানান, তিনি প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ হাজার টাকার দই বিক্রি করেন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফেরি করে এ দই বিক্রি করেন তিনি।

তিনি আরো জানান, তার মতো আরো ৬০ থেকে ৭০ জন আছেন, যারা রমজান মাসে সাদা দই ফেরি করে বিক্রি করেন।

বগুড়া শহরের মালতিনগরের বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম জানান, রোজা রেখে ইফতারের সময় ঠাণ্ডা কিছু হলে তৃপ্তি বেশি পাওয়া যায়। শরীর ঠাণ্ডা রাখতে অনেকেই দইয়ের ঘোলের ওপর আস্থা রাখেন। কেউ বিভিন্ন ধরনের শরবত পান করেন। কিন্তু বগুড়ার দইয়ের বিকল্প হয় না। বণিকবার্তা

নিউজটি পড়েছেন 1918 জন

আর্কাইভস