সর্বশেষ:

ধুনটের বিভিন্ন রুটে বেপরোয়াভাবে চলছে পরিবহন চাঁদাবাজি »

ধুনটের বিভিন্ন রুটে বেপরোয়াভাবে চলছে পরিবহন চাঁদাবাজি

বগুড়ার ধুনট উপজেলার অভ্যন্তরিন বিভিন্ন রুটে বেপরোয়া ভাবে চলছে পরিবহন চাঁদাবাজি। স্থানীয় একাধিক শ্রমিক ও মালিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করার কথা বলে নির্বিঘে চালিয়ে যাচ্ছে এসব বাধ্যতামুলক চাঁদাবাজি। তারা অবৈধভাবে চলাচলকারী শ্যলোমেশিন চালিত ভটভটি, নসিমন ও করিমন থেকে প্রায় ১৫/২০টি পয়েন্টে প্রকাশ্যে চাঁদা আদায় করছে। এছাড়াও ব্যাটারী চালিত অটোরিকসা, সিএনজি, চালিত অটো রিকসা, ইজি বাইক, বাস, মিনিবাস ও ট্রাক থামিয়ে একইভাবে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে নির্বিঘ। তবে প্রশাসনের নীরবতার কারনে এই চাঁদাবাজির মাত্রা আরো বেড়ে গেছে। এতে পরিবহন মালিক, চালক ও যাত্রীগণ প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ধুনট উপজেলা সদর সহ ১০টি ইউনিয়নের অভ্যন্তরীন বিভিন্ন রুটে প্রায় ২০০টি নসিমন, করিমন ও ভটভটি, ৫০০টি ইজি বাইক, ২০০টি সিএনজি চালিত অটো রিকসা ও ২ হাজার ব্যাটারী চালিত অটো ভ্যান চলাচল করে। এসব রোডের যানবাহনের চালককে গন্তব্যে পৌছাতে হলে ৪/৫ টি পয়েন্টে প্রায় ৫০ টাকা থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়। ধুনট উপজেলা অটোরিক্সা ও ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন, সিএনজি মালিক কল্যান সমিতি, পৌর সভা, বগুড়া জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ, মাইক্রোবাস পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন, বগুড়া জেলা পিক আপ মালিক সমিতি, কান্তনগর বাজার শ্রমিক ইউনিয়ন সহ বিভিন্ন ভূইফোর শ্রমিক ও মালিক সংগঠনের নামে রশিদ দিয়ে এসব চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। গড়ে ধুনট উপজেলা সদর সহ ১০টি ইউনিয়নের বিভিন্ন যানবাহন থেকে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় হয়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েক চালক জানান, ধুনট বাজার সহ ১৫/২০টি পয়েন্টে চাঁদা আদায়কারী ভূইফোর সংগঠনের কর্মীরা ভোর ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত প্রকাশ্যে ভটভটি, নসিমন, করিমন, অটো ভ্যান, ইজি বাইক, হিউম্যান হলার, ট্রাকটর ও সিএনজি চালিত অটো রিকসা থেকে চাঁদা আদায় করছে। রাস্তায় চাঁদা আদায়ের দায়িত্বে রয়েছেন ধুনট বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় ইউনুস আলী, ধুনট বাজারের পোষ্ট অফিস এলাকায় টুংকু মিয়া, ধুনট জিরোপয়েন্ট এলাকায় রঞ্জুন মিয়া, কান্তনগর এলাকায় মোজাহার আলী ও সুলতান মিয়া, আরকাটিয়া এলাকায় মডিফ মিয়া, জোড়শিমুল এলাকায় শাহীন মিয়া, সোনাহাটা এলাকায় দুলাল মিয়া, গোসাইবাড়ী সাতমাথা এলাকায় ভোলা মিয়া, এলাঙ্গী বাজারে বাবলু মিয়া, মথুরাপুর বাজারের তিনটি পয়েন্টে ইঞ্জিল হোসেন, বাবু মিয়া, বাদশা মিয়া ও আব্দুর রাজ্জাক। এছাড়াও আরো বিভিন্ন সড়কে আরো কয়েক ব্যক্তি চাঁদা আদায়ের দায়িত্বে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আদায় করা চাঁদার টাকা থেকে আদায়কারীদের মজুরী হিসাবে প্রতিদিন ২ শত টাকা দেওয়ার পর অবশিষ্ট টাকা বিভিন্ন শ্রমিক ও মালিক সংগঠনের নেতারা ভাগবাটোয়ারা করে নেয়।
ধুনট থেকে গোশাইবাড়ী রুটে চলাচলকারী ভটভটি চালক শুকুর আলী আক্ষেপ করে বলেন, ধুনট থেকে গোশাইবাড়ী বা ঢেকুরিয়া ১০ কিঃমিঃ রাস্তা যেতে যাত্রী বা মালামাল কমবেশি যাই হোক না কেন রাস্তায় ৫ জায়গায় ৫০ টাকা বাধ্যতামুলক চাঁদা দিতে হয়। আমরা প্রত্যেকে প্রতিদিন পৌরসভায় ১০ টাকা করে টোল দেই অথচ আমাদের কোন লাইসেন্স দেওয়া হয় না। এছাড়া রাস্তায় আরো বিভিন্ন সংগঠনের নামে চাঁদা নেয়। অবৈধ বলে তাই সবাই আমাদের কাছ থেকে অবৈধ সুযোগ নেয়।

ধুনট পৌরসভার সচিব শাহীনুর ইসলাম বলেন, পৌরসভার রাজস্ব আদায়ের জন্য পৌর এলাকার রাস্তা প্রতিবছর ইজারা দেওয়া হয়। তাই ইজারাদার লোক নিয়োগ করে যানবাহন থেকে আদায় করে।
কান্তনগর বাজারের চেইন মাষ্টার (চাঁদা আদায়কারী) সুলতান মাহমুদ জানান, তিনি ধুনট উপজেলা অটোরিক্সা ও ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন এবং কান্তনগর বাজার সমিতির নামে ১০ টাকা করে আদায় করা হয়। এসব টাকা প্রশাসনকে ম্যানেজ করার কথা বলে এবং শ্রমিকদের কল্যাণের নামে শ্রমিক নেতা ফজলুল হক মিলন নিয়ে যায়।

তবে শ্রমিক নেতা ফজলুল হক মিলন বলেন, শ্রমিকদের কল্যাণের নামে বৈধভাবেই টাকা আদায় করা হচ্ছে।
এবিষয়ে ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খান মো: এরফান বলেন, রাস্তায় যানবাহন থামিয়ে চাঁদা আদায়ের ঘটনা জানা নেই। তবে প্রমান পেলে তাৎক্ষনিকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বগুড়ার সংবাদ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
নিউজটি পড়েছেন 2379 জন

আর্কাইভস