সর্বশেষ:

বউ ব্যারিস্টার আর বগুড়ার রাহাত 'ও' লেভেল 'এ' লেভেল পড়ে এখন কৃষক »

বউ ব্যারিস্টার আর বগুড়ার রাহাত ‘ও’ লেভেল ‘এ’ লেভেল পড়ে এখন কৃষক
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বউ ব্যারিস্টার আর রাহাত কৃষক। কৃষক হলেও ডিগ্রী তার ঝুলিতে কম নেই। পড়াশোনা করেছেন ইংরেজি মাধ্যমে। ‘ও’ লেভেল পড়েছেন ভারতের দার্জিলিংয়ে, ‘এ’ লেভেল রাজধানীর স্কলাসটিকা থেকে। ব্রিটিশ স্কুল অব ল থেকে আইনে স্নাতক করেছেন। যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসল শহরের নর্থ অ্যাম্ব্রিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে একই বিষয়ে স্নাতকোত্তর। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় ব্যবস্থাপনা বিষয়েও নিয়েছেন স্নাতকোত্তর ডিগ্রি।

তারপর? বগুড়ায় এসে করেছেন মাছ আর গরুর খামার। শুরুটা মাছ দিয়ে। সফলতাও পেয়েছেন। এরপর দেড় লাখ টাকায় দুটি বাছুর কিনে শুরু করেন গরুর খামার। এখন খামারে বিদেশি জাতের গরু আছে ৪৮টি। এসব গরুর দাম প্রায় ৬০ লাখ টাকা। গত কোরবানির ঈদে খামারের গরু বিক্রি করে লাভ করেছেন প্রায় দেড় কোটি টাকা।

রাহাতের স্ত্রী রুমাইয়া তাসনিম ব্যারিস্টার। তিনি হাইকোর্টে আইন পেশায় যুক্ত। ‘খামার করি, শুরুতে পরিবারের অনেকেই এটা মন থেকে চাননি। এখন স্ত্রীই সবচেয়ে বেশি উৎসাহ দেন, সহযোগিতা করেন।

আমাদের দেশের মাস্টার্স ডিগ্রীধারী সবাই ডেস্ক জব চায়। কাজে বাইরে পাঠালে তাদের মন খারাপ হয়ে যায়। মনে হয় ডেস্ক জবই তার পাওনা। কষ্ট করে লেখা পড়া করেছে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বস বাইরে ফিল্ডে কাজ করালে সেলস টিম এর কর্মী মনে হয় তাদের। জ্যামে-বাসে চলাফেরা করলে মান ইজ্জত যাবে। পরিচিত মানুষের সাথে যদি দেখা হয়ে যায়। অথচ বেশিরভাগ মাস্টার্স পাশ করা ছেলে মেয়েরা তাদের CV ঠিক করে এডিট করতে পারে না। এমনও সিভি পেয়েছি; তার নিজের নাম কপি করা সিভি থেকে হুবহু রয়ে গেছে। ব্যাকস্পেস চাপতে মনে নেই।

নিজের কাজ নিজে করতে লজ্জা পায় আমাদের দেশের ডিগ্রীধারীরা। কিভাবে অন্যের উপর ভর করে বাকি জীবনটা পার করে দেওয়া যায় সেই ফন্দিতে বেশিরভাগ মানুষই ওস্তাদ। কৃষি কাজ করলেই চাষী বলে গালি শুনতে হয়। অথচ আমাদের দেশে কৃষি উদ্যোক্তার বড়ই অভাব। আমরা যদি ভালো ডিগ্রী নিয়ে চাষাবাদে মনোযোগ দিতে পারতাম, তাহলে এই দেশে খাদ্য সংকট দেখা দিতো না। চাল আমদানি করতে হতো না। বরং রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যেতো। যারা বহুদিন চাকরির পিছনে ছুটেও চাকরি পাচ্ছেন না, তারা গ্রামে চলে যান। মাঠে চাষ করুন। বেতনের চেয়ে কয়েকগুণ টাকা আয় করতে পারবেন। স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলুন। প্রয়োজনে মাঠের রাস্তায় মার্সিডিস বেঞ্জ নিয়ে চাষ করতে থাকুন। জয় হোক আমাদের রাহাতের; জয় হোক আমাদের কৃষির। প্রথম আলো

নিউজটি পড়েছেন 2236 জন

আর্কাইভস