সর্বশেষ:

ধুনটে পুলিশের ভয়ে জনশূণ্য ভালুকাতলা গ্রাম »

ধুনটে পুলিশের ভয়ে জনশূণ্য ভালুকাতলা গ্রাম
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আর ১০টি গ্রামের মতই গ্রামটি। সবার আছে শান্তির নীড়। গ্রামের মাঝ দিয়ে মেঠোপথ। দুই পাশে সারি সারি বাড়িঘর। কিন্ত বাড়িতে নেই মানুষ। গোয়ালে নেই গরু। ঘরে ঘরে ঝুলছে তালা। খাখা করছে বাড়ির আঙ্গিনা। চুলায় বাসা বেঁধেছে কীটপতঙ্গ। আম পেকে পড়ে আছে গাছের নীচে। কুড়িয়ে নেওয়ার মানুষ নেই। জনশুণ্য গ্রামটিতে চলছে সুনসান নিরবতা। পুলিশের ভয়ে পালিয়েছে গ্রামের মানুষ। এমন চিত্র বগুড়ার ধুনট উপজেলার চিকাশি ইউনিয়নের ভালুকাতলা গ্রামের।    

রোববার সকালের দিকে সরেজমিন গ্রামটিতে গিয়ে কোন পরিবারে মানুষের দেখা মিলেনি। গ্রামের প্রবেশ পথে কথা হয় ভালুকাতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রফিকুল ইসলামের সাথে। তিনি জানান, ভালুকাতলা গ্রামের লিটন মিয়া নামে এক ইউপি সদস্য একটি হত্যা মামলার ১নং আসামী। পুলিশ ৪জুন রাতে লিটনকে গ্রেফতার করে। এ সময় পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে লিটনকে ছিনিয়ে নেয় তার স্বজনরা। এ ঘটনায় গ্রেফতার এড়াতে বাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে গ্রামের মানুষ। গ্রামটিতে প্রায় ৩০০ পরিবারের বসবাস। এখন কোন পরিবারেই লোকজন বাড়িতে থাকে না। ফলে স্থবির হয়ে পড়েছে গৃহস্থালী কর্মকান্ড। এমন পরিস্থিতিতে ভাল নেই ভালুকাতলা গ্রামের মানুষ।  

গ্রামের মাঝ পথে দেখা মিলল পুলিশের সোর্স পরিচয়দানকারী এক যুবকের সাথে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, সব সময় বাড়িতে থাকা হয় না। মাঝে মাঝে গ্রামে আসেন। তবে গ্রামে সব সময় পুলিশ আগমনের গুজব বিরাজ করছে। দুই একজন গোপনে বাড়িতে ফিরতে চাইলেও গ্রেফতার আতংকে ফিরতে পারছে না। সব বাড়ির গবাদিপশু গুলো অন্য গ্রামের আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে স্থানান্তর করেছে। গ্রামে এবার ঈদ আনন্দের ছোঁয়া লাগেনি। কোন বাড়িতে আত্মীয় স্বজনও বেড়াতে আসেনি।

ঘরে তালা দিয়ে বারান্দায় নবজাতককে কোলে নিয়ে বসে আছে সন্ধ্যা খাতুন। তার চোখে মুখে আতংকের ছাপ। তিনি জানান, পুলিশের উপর হামলার ঘটনার সাথে তার পরিবারের কেউ জড়িত ছিল না। তারপরও ঈদের দিন রাতে পুলিশ তার শ্বাশুড়ি ও ননদকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে। সেই রাত থেকে তার স্বামী আলম মিয়া পলাতক রয়েছেন। শারীরিক অক্ষমতার কারনে সন্ধ্যা খাতুন বাড়ি ছেড়ে পালাতে পারেনি। পাশের গ্রামের এক আত্মীয় তাকে তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করছেন।

ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, ৪ পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে আহত করে হত্যা মামলার আসামী লিটন মিয়াকে ছিনিয়ে নিয়েছে গ্রামবাসি। এ ঘটনায় ২২জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৬০জনকে আসামী করে থানায় দায়ের করা মামলায় এ পর্যন্ত ২৪জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তবে নিরাপরাধ কোন মানুষকে গ্রেফতার করা হয়নি। এ ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতারের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে। দেশসংবাদ

নিউজটি পড়েছেন 1005 জন

আর্কাইভস