সর্বশেষ:

ধুনটে কৃষি কর্মকর্তার পুকুরচুরি নয় রীতিমত সাগরচুরি! »

ধুনটে কৃষি কর্মকর্তার পুকুরচুরি নয় রীতিমত সাগরচুরি!
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বগুড়ার ধুনটে সরকারি ভর্তুকিতে কেনার কথা ৪টি ধান কাটা যন্ত্র (কম্বাইন হারভেস্টার)। প্রতিটি যন্ত্রের দাম ২৮ লাখ করে মোট ১ কোটি ১২ লাখ টাকা। নিয়ম অনুযায়ী এই অর্থের অর্ধেক দেওয়ার কথা সরকারের। আর কৃষি পূর্নবাসন কর্মসূচির আওতায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই ধান কাটা যন্ত্র পাওয়ার কথা উপজেলার চারজন কৃষকের। কিন্তু কৃষি কর্মকর্তা মুশিদুল হক পরিকল্পনা করেন সাগরচুরির। তিনি মেশিন আছে এমন কৃষকের সঙ্গে চুক্তি করে সমুদয় অর্থ লুট করার জন্য তৈরি করেন ভুয়া বিল ও ভাউচার। তবে অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়টি আগেই জানতে পারেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। এ কারণে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ থানায় সাধারণ ডায়রির আবেদন করা হয়।

আজ বুধবার কালের কণ্ঠের কাছে উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

জানা গেছে, কৃষি পূর্নবাসন কর্মসূচির আওতায় ২০১৯-২০ অর্থবছরে সরকারি ভর্তুকিতে ধান কাটা যন্ত্র (কম্বাইন হারভেস্টার) ক্রয়ের জন্য ১৯ জন কৃষক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার নিকট আবেদন করেন। কিন্ত এ উপজেলার জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৪টি যন্ত্র। প্রতিটি যন্ত্রের মূল্য ২৮ লাখ টাকা। এই মূল্যের ৫০ শতাংশ টাকা কৃষক সরকারের নিকট থেকে ভুর্তকি পাবেন। আবেদনকৃত ১৯ জনের মধ্যে নাটাবাড়ি গ্রামের ফোরহাদ রেজা, চিকাশি গ্রামের ছানোয়ার হোসেন ও পাঁচথুপি গ্রামের আশরাফুল ইসলামের নামে ধান কাটা যন্ত্রের বরাদ্দ চুড়ান্ত করেন কৃষি কর্মকর্তা। একই কৌশলে বাকী একজন কৃষকের নাম চুড়ান্তের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন ছিল।  

বিধি মোতাবেক উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক কৃষকের নাম চুড়ান্ত করার কথা। কিন্তু কৃষি কর্মকর্তা নিজেই টাকাগুলো লুটপাট করার জন্য মনগড়াভাবে তিনজন কৃষকের নাম চুড়ান্ত করেছেন। এর মধ্যে কৃষক ফোরহাদ রেজা ২০১৯ সালের ১৬ অক্টোবর, ছানোয়ার হোসেন ২০১৯ সালের ২৪ নভেম্বর ও আশরাফুল ইসলাম ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর ধান কাটা যন্ত্র ক্রয় করেছেন। সেই পুরাতন যন্ত্র ৩টি নতুন করে এবারে ক্রয় দেখিয়ে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করেন কৃষি কর্মকর্তা মুশিদুল হক। পুরাতন ৩টি যন্ত্র কাগজ-কলমে নতুন দেখিয়ে ২১ এপ্রিল তিনজন কৃষকের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই যন্ত্রের চাবি হস্তান্তর করা হয়েছে।

এ ঘটনায় ২৭ এপ্রিল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পাঁচজন কৃষক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট একটি অভিযোগপত্র দাখিল করেন। কৃষকের অভিযোগটি তদন্তে ৫ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হয়। পরে তদন্তে দোষী প্রমাণিত হওয়ায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবরে সুপারিশসহ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত কমিটি। এছাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানার কাছে থেকে প্রতারণা করে স্বাক্ষর গ্রহণ করায় ওই কৃষি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়রির আবেদন করেছেন তিনি।

এ ঘটনা সম্পর্কে তালিকাভুক্ত কৃষক ফোরহাদ রেজা, ছানোয়ার হোসেন ও আশরাফুল ইসলাম জানান, ধান কাটা যন্ত্রগুলো তারা গত বছর এসিআই মটরস লিমিটেড কম্পানির নিকট থেকে কিস্তিতে ক্রয় করেছেন। এ অবস্থায় কৃষি কর্মকর্তা তাদের নামে ধান কাটা যন্ত্র বরাদ্দ দিয়ে ২১ এপ্রিল চাবি হস্তান্তরের ছবি তোলেন। তাদের নতুন কোনো ধান কাটা যন্ত্র দেওয়া হয়নি। আর তাদের নতুন মেশিন প্রয়োজনও নেই।

অভিযোগ প্রসঙ্গে ধুনট উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশিদুল হক বলেন, আমি কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি করিনি। ওই তিনজন কৃষক ভুল তথ্য দিয়ে তাদের নামে ধান কাটা যন্ত্র বরাদ্দ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাদের নামে বরাদ্দের ৩টি যন্ত্র বাতিল করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ধুনট উপজেলা কৃষি পুর্নবাসন কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজিয়া সুলতানা বলেন, করোনা প্রতিরোধ কাজে ব্যস্ত থাকায় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে কৃষক যাচাই-বাচাই, ধান কাটা যন্ত্র ক্রয় ও বিল ভাউচার তৈরিসহ যাবতীয় দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্ত তিনি অনিয়ম ও দুনীর্তির মাধ্যেমে সরকারি ভর্তুকির টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করেন। বিষয়টি তদন্ত করেও এই অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সুপারিশ করা হয়েছে। কালের কণ্ঠ

নিউজটি পড়েছেন 2297 জন

আর্কাইভস