সর্বশেষ:

ধুনটে ইট ভাটার বিষাক্ত গ্যাসে ৫০০ একর জমির ফসলের ক্ষতি »

ধুনটে ইট ভাটার বিষাক্ত গ্যাসে ৫০০ একর জমির ফসলের ক্ষতি
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের উজাল শিং গ্রামের শামছুন্নাহার ৪০ শতক জমি বন্ধক নিয়ে বোরো ধানের চাষ করেছেন। ওই জমি থেকে ৩৫ মণ ধান পাওয়ার আশা করেছিলেন তিনি। চাষাবাদে খরচ করেন প্রায় ২০ হাজার টাকা। পুরোটাই ধার করা। আর ১৫ দিন পর এই জমির ধান ঘরে তোলার কথা তাঁর। এর আগেই ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে ধানের শিষ চিটা হয়ে গেছে।

শামছুন্নাহারের জমির আশপাশের আরও অন্তত ৩০০ কৃষকের ৫০০ একর জমির ফসল ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসের ক্ষতির মুখে পড়েছে।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মথুরাপুর ইউনিয়নের খাদুলী, কুড়িগাতি, উজাল শিং গোবিন্দপুর ও জোলাগাতী গ্রামের মাঝখানে প্রায় ৫০০ মিটার এলাকার ভেতর তিন ফসলি জমিতে অনুমতি ছাড়াই অবৈধভাবে গড়ে উঠেছে ৮টি ইটভাটা। এসব ইটভাটার মালিকেরা শুধু উপজেলা কৃষি অফিসের ছাড়পত্রের ওপর ভিত্তি করে গড়ে তুলেছেন একতা, ফাইভ স্টার, বস, গ্রামীণ, আদর্শ, বন্ধু, বি বি সি ও দিগন্ত নামে ইটভাটাগুলো। ভাটাগুলোর আশপাশের আছে তিন ফসলিসহ লেবুর বাগান।

বিষাক্ত গ্যাসের কারণে ফসলের ক্ষতি হওয়ার কথা স্বীকার করেছেন গ্রামীণ ইটভাটার মালিক ফরিদুল ইসলাম। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ইটভাটার বিষাক্ত গ্যাসে যেহেতু ফসলের ক্ষতি হয়েছে, তাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার হিসাব অনুযায়ী কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। ভাটার অনুমোদনের বিষয়ে তিনি বলেন, কৃষি কর্মকর্তার ছাড়পত্র আছে। পরিবেশ অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। এখনো অনুমতি মেলেনি। ফরিদুল বলেন, সব ধরনের নীতিমালা মেনেই ইটভাটা করা হয়েছে।

তবে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেছেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অভিযোগ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে ভাটা বন্ধের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ধুনট উপজেলা কৃষি অফিসের একজন কর্মকর্তা বলেন, কয়েকটি চুলায় আগুন রেখেই ইটভাটা বন্ধ করার নিয়ম। যদি একসঙ্গে সব চুলার আগুন বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে চিমনি দিয়ে প্রচুর পরিমাণ ভারী সালফার ডাই-অক্সাইড বের হবে। এই গ্যাস বায়ুমণ্ডলের বেশি ওপরে যেতে পারে না। ফলে দ্রুত নিচের দিকে নেমে আসায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। প্রথম আলো

নিউজটি পড়েছেন 576 জন

আর্কাইভস