সর্বশেষ:

আবার কবে প্রিয় ক্যাম্পাস গুলো মুখরিত হবে ছাত্র-ছাত্রীদের পদচারণায় »

আবার কবে প্রিয় ক্যাম্পাস গুলো মুখরিত হবে ছাত্র-ছাত্রীদের পদচারণায়
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

এস এম ফজলে রাব্বী শুভ, ধুনট, বগুড়াঃ-

শিক্ষার্থীরা হলো স্কুল কলেজের প্রাণ। তাদের উপস্থিতি ও নিয়মিত পড়াশোনা শিক্ষা ধারাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যায়। বিশ্বব্যাপী মহামারী করোনার কারনে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ আছে স্কুল কলেজ।এর ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।যেমন: স্কুল কলেজ খোলা থাকলে ছেলেমেয়েরা নিয়মিত স্কুলে যায়, বন্ধু-বান্ধব ও সহপাঠীদের সাথে আনন্দের মাধ্যমে পড়ালেখা করে দিনের অধিকাংশ সময় অতিক্রম করে, ফলে তাদের মন মানসিকতা ফুরফুরে মেজাজের হয় এবং জীবন যাপনের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে। কিন্তু স্কুল দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় ছেলেমেয়েরা বাসায় বসে অনেক ক্লান্তি ও অস্বস্তি বোধ করছে। তাতে এরা মানসিকভাবে বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়ছে।

সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, করোনা পরিস্থিতি অনুকূলে এলে আগামী জুন মাসে এসএসসি এবং জুলাই-আগস্ট মাসে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। তবে এর আগে এসএসসি ও এইচএসসি স্তরের শিক্ষার্থীদের সিলেবাস পুনর্বিন্যস্ত করা হচ্ছে। এসব শিক্ষার্থীর জন্য আগামী ফেব্রুয়ারি থেকে সীমিত পরিসরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। তথ্য অনুযায়ী, বেসরকারি স্কুল ও কলেজের শিক্ষকেরা চাইছেন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার জন্য। বিশেষ করে ব্যাসায়িক দৃষ্টিভঙ্গি বিবেচনায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চালুর জন্য তারা একপ্রকার মরিয়া। স্কুল না খোলার কারণে কোথাও কোথাও শিক্ষার্থী ভর্তির হার শূন্যের কোঠায় পর্যন্ত নেমে গেছে।স্কুল বন্ধ থাকার কারণে চার দেয়ালের মাঝে বন্দি হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা; বিশেষ করে নগর ও শহরাঞ্চলের শিশুরা।

গত বছর ১৭ মার্চ দেশে প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা আসে। সরকার বেশ কয়েক দফায় স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় খোলার বিষয়ে বিবেচনা করলেও দেশে মহামারি পরিস্থিতির কারণে সেটা আর সম্ভব হয়নি। বরং দফায় দফায় বন্ধ থাকার মেয়াদ বেড়েছে। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকায় শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। বন্দি এ সময়ে শিশুরা মোবাইল ও ইন্টারনেটে আসক্ত হয়ে পড়েছে। মোবাইল বা টিভি নিয়ে হয় তারা ঘরের এককোণে পড়ে থাকছে। আর সেগুলো না পেলে ঘরের ভেতর এতটাই দুরন্তপনা করছে যে, তাদের শান্ত রাখতে অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে হাতে ডিভাইস তুলে দিচ্ছেন। বিভিন্ন পার্ক এবং বিনোদন কেন্দ্রগুলো মহামারিতে বন্ধ থাকায় অভিভাবকরা শিশুদের সেখানেও নিয়ে যেতে পারছেন না। স্কুল একটি শিশুকে শুধু লেখাপড়াই শেখায় না, বরং তাকে সামাজিক হতেও শেখায়। দীর্ঘদিন স্কুল বন্ধ থাকার কারণে শিশুরা বাড়ি থেকে বের হওয়ার বা অন্যদের সঙ্গে মেশার সুযোগ একদমই পাচ্ছে না। দিন দিন অসামাজিক হয়ে উঠছে।

দীর্ঘ সময় স্কুলের বাইরে থাকার কারণে অনেক শিশুর মধ্যেই আচরণগত পরিবর্তন এসেছে বলে মত মনোবিজ্ঞানীদের। একদিকে যেমন তাদের সঠিক মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে নিয়মতান্ত্রিক জীবনে অনভ্যস্ত হয়ে পড়ার প্রবণতাও বাড়ছে। শিশুরা একা থাকায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ছে। ফলে স্কুল খুললে অন্য শিশুদের সঙ্গে তাদের খাপ খাওয়ানো বা ক্লাসে মনযোগ ধরে রাখা কষ্টকর হয়ে উঠবে। শুধু মানসিক সমস্যা নয়, দীর্ঘ সময় স্কুল বন্ধ থাকার কারণে শিশুদের শারীরিক সমস্যাও বাড়ছে। শহুরে শিশুদের মধ্যে মুটিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে। দিনের পর দিন দীর্ঘসময় ইলেক্ট্রনিক ভিভাইসের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তাদের চোখ ও মস্তিষ্কের ভয়াবহ ক্ষতি হচ্ছে।অনেক সময় আমরা দেখি যে, অনেকের আচরণগত সমস্যা হচ্ছে, অনেকে প্রচণ্ড জেদ করছে, ইমোশনাল রিঅ্যাকশন হচ্ছে, কান্নাকাটি করছে কেউ কেউ, কেউ হয়তো জেদ করে কোন কাজ করা বন্ধ করে দিচ্ছে, ইন্টারনেট ও মোবাইল ব্যবহার বাড়ছে।এ ভাবে চলতে থাকলে এই প্রজন্ম মেধা শূন্য হয়ে যাবে।তাই সরকারকে অনুরোধ করছি,এই প্রজন্ম কে বাঁচাতে হলে অতি তাড়াতাড়ি স্কুল কলেজ খুলে দেওয়া হোক,নইলে আমাদের সামনে একটি মেধা শূন্য প্রজন্মের দেখার অপেক্ষা মাত্র।কবে আবার ছাত্র-ছাত্রীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠবে প্রিয় ক্যাম্পাস গুলো। এমনটাই প্রত্যাশা আমাদের সবার।

এস এম ফজলে রাব্বী শুভ entertainmentshuvo@gmail.com

নিউজটি পড়েছেন 359 জন

আর্কাইভস