সর্বশেষ:

ধুনটে সরকারি গাছ বিক্রি করলেন আ'লীগ ও যুবলীগ নেতা »

ধুনটে সরকারি গাছ বিক্রি করলেন আ’লীগ ও যুবলীগ নেতা
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বগুড়ার ধুনটে গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণের প্রস্তাবিত খাসজমিতে ভূমিহীনদের লাগানো প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের ২০০টি বিভিন্ন জাতের গাছ অবৈধভাবে কেটে বিক্রি করেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও যুবলীগ নেতারা। প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগীরা।

সরেজমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, যমুনা নদীর ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব আব্দুর রশিদ, বদিউজ্জামান, তোতা মণ্ডল, আয়নাল হক, আশরাফ আলী, ফরিদুল ইসলাম, মিস্টার হোসেন, জয়নাল আবেদীন, অবিরন নেছা, হাজেরা খাতুনসহ কয়েকজন ১৫ বছর আগে গোশাইবাড়ি ইউনিয়নের মানাস নদীর তীরে চুনিয়াপাড়া এলাকায় বসতি গড়ে তোলেন। নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এ পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময়ে নানা জাতের গাছ লাগিয়ে পরিচর্চা করে আসছিলেন। বর্তমানে গাছগুলো কাটার উপযুক্ত হয়েছে। সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার মহন্ত ওই জায়গায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্প গৃহহীনদের ঘর নির্মাণের জন্য নির্ধারণ করে লাল পতাকা টানিয়ে দেন। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে টেন্ডারের মাধ্যমে সরকারি গাছ বিক্রি করতে হবে। অথচও সেসব নিয়মের কোনো তোয়াক্কা না করে গোশাইবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান, উপজেলা যুবলীগের ত্রাণবিষয়ক সম্পাদক বেলাল হোসেন, গোশাইবাড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম ও তাদের সহযোগীরা ৫-৬ দিন ধরে প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের ২০০টি গাছ কেটে ফেলেছেন। গাছগুলো তারা স্থানীয় সাদ্দাম হোসেন নামে এক করাত কলের মালিকের কাছে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে আওয়ামী লীগ নেতা লুৎফর হোসেন ও যুবলীগ নেতা বেলাল হোসেন জানান, এ অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন। গাছ কাটার সঙ্গে তারা জড়িত নয়।

এদিকে ভুক্তভোগী আশরাফ আলী বলেন, দেড় লাখ টাকা মূল্যের ২০টি গাছ ও দুটি বাঁশঝাড় আওয়ামী লীগের নেতারা অবৈধভাবে কেটে নিয়েছেন। এই গাছ বিক্রি করে মেয়ের জামাইকে দেওয়ার কথা ছিল। টাকা না দেওয়ায় মেয়ের সংসার ভেঙে যাবে। আয়নাল হক বলেন, আওয়ামী লীগের নেতারা আমার ১৬টি গাছ কেটে নিয়েছেন। এ ছাড়া তোতা মণ্ডলের ২৫টি, বদিউজ্জামানের ২৬টি, আব্দুর রশিদের ২২টিসহ অন্যান্য পরিবাদের সদস্যদের লাগানো ২০০টি গাছ অবৈধভাবে কেটে নেওয়া হয়েছে বলে ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন।

ধুনট ইউএনও সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, গৃহহীনদের জন্য ঘর নির্মাণ প্রকল্প এলাকা থেকে গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ পেয়েছি। এ বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি জেনেছি এবং ভুক্তভোগীদের কথাও শুনেছি। তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সমকাল

নিউজটি পড়েছেন 474 জন

আর্কাইভস