সর্বশেষ:

ধুনটের একমাত্র খেলার মাঠটি জরাজীর্ণ, দেখার কেউ নেই »

ধুনটের একমাত্র খেলার মাঠটি জরাজীর্ণ, দেখার কেউ নেই

এস এম ফজলে রাব্বি শুভ, ধুনট, বগুড়া-

খেলাধুলা যেমন শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে তেমনি মনকে প্রফুল্ল রাখে। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম স্মার্ট ফোনে ব্যস্ত থাকায় উন্মুক্ত মাঠে খেলাধুলার খুব একটা চোখে পরে না, যা তরুণ প্রজন্মের জন্য হুমকিস্বরূপ। ধুনট উপজেলার একটি মাত্র খেলার মাঠটি হলো ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ধুনট সরকারী এন ইউ পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ। এই এলাকার তরুণরা প্রতিদিন বিকেলবেলা ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার জন্য এই মাঠই একমাত্র ভরশা। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বিদ্যালয়ের মাঠটি খেলার জন্য অনুপযোগী। এ মাঠটি উপজেলার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠ।

উপজেলার সকল জাতীয় অনুষ্ঠান ও সকল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা এই মাঠেই হয়ে থাকে। এছাড়াও এলাকার শিশু-কিশোর, স্কুল-কলেজ পড়–য়া শিক্ষার্থীরা এখানে খেলাধুলা করে থাকে। নিয়মিত খেলতে না পারায় হতাশায় বিভিন্ন শিক্ষার্থী ও মহল্লার খেলোয়াড়রা। এদিকে করোনার কারণে দেশের সকল বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় অনেকেই এ মাঠে খেলাধুলা করেন শারীরিকভাবে সুস্থ থাকতে। ডায়াবেটিস রোগীরাও সুস্থ থাকতে সকাল-বিকাল এ মাঠে হাঁটা-হাঁটি করেন। তাছাড়াও এ মাঠে জেলার অন্যন্য উপজেলার খেলোয়াড়রা প্রতিনিয়ত খেলার অনুশীলন করে থাকে।কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো,যখনই বৃষ্টি হয় তখনই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় বন্ধ থাকে খেলার সকল কার্যক্রম। কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকার কারণে এ দুর্দশা হচ্ছে প্রতিনিয়তই।শুধু তাই নয় উপজেলার সবচেয়ে বড় হাট শনিবার ও মোঙ্ললবার এই দুই দিন এই মাঠেই বসে থাকে।অন্যদিকে এলাকার কিছু প্রভাবশালী লোকজন এই মাঠেই ধানের খড় শুকানোর জন্য এই মাঠটি ব্যবহার করে থাকে।এর ফলে খেলোয়াড়রদের খেলাধুলা করতে খুব অসুবিধা হয়।

এ ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের কোন খেয়াল নেই। মাঠের দুরবস্থা দেখে যাওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ তারা। এ ব্যাপারে উপজেলা ক্রিড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাউন্সিলর অালী অাজগর মান্নান বলেন, এ মাঠটি দীর্ঘ সময় ধরে কোন সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এছাড়াও সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চার অভাবে শিশু-কিশোর ও যুবকরা দিনদিন মাদকের দিকে ঝুঁকছে এবং ক্ষতিকর মোবাইল গেমস্ এ আসক্ত হয়ে পড়ছে। দ্রুত এ মাঠটির জলাবদ্ধতা নিরসন ও সংস্কারের দাবি জানান। তাই দ্রুত এই খেলার মাঠটি সংস্কারের মাধ্যমে খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অনুরোধ জানান তারা। এই এলাকার জনপ্রিয় খেলোয়াড় সুমন জানান, আমরা এ মাঠে প্রতিনিয়তই খেলাধুলা করে থাকি। সামান্য বৃষ্টি হলেই আমাদের খেলা বন্ধ হয়ে যায়।এর মুল কারন মাঠের কোন ড্রেনেজ ব্যবস্থা নেই।অাবার এলাকার কিছু মানুষ ধানের খড় শুকানোর জন্য এই মাঠকেই বেছে নিয়েছে।অামরা নিষেধ করলেও কেউ এই বিষয় টি অামলে নেয়নি। মাঠটি সংস্কারের ব্যাপারে কাউকে কোন সময় উদ্যোগ নিতেও দেখা যায়নি।ধুনট উপজেলায় অনেক উন্নয়ন হলেও মাঠে কারো নজরে আসে না।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
নিউজটি পড়েছেন 327 জন

আর্কাইভস