সর্বশেষ:

যে কারণে ধুনটের ৬ ইউনিয়নে নৌকা মার্কার প্রার্থীর ভরাডুবি »

যে কারণে ধুনটের ৬ ইউনিয়নে নৌকা মার্কার প্রার্থীর ভরাডুবি

বগুড়ার ধুনট উপজেলার ১০টি ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে ৬টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা মার্কার প্রার্থীর ভরাডুবি হয়েছে। তন্মধ্যে চিকাশী ইউনিয়নে নৌকা মার্কার প্রার্থী ৫ নম্বরে, ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নে ৩ নম্বরে, গোপালনগর, চৌকিবাড়ী, কালেরপাড়া ও গোসাইবাড়ী ইউনিয়নের প্রার্থী ২ নম্বরে রয়েছে।

রবিবার অনুষ্ঠিতব্য ধুনট উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার পর এতথ্য জানা যায়।

তবে নৌকা মার্কার প্রার্থীদের পরাজয়ের কারণ হিসেবে অগ্রহনযোগ্য ব্যক্তিদের অর্থের বিনিময়ে নৌকা মার্কার মনোনয়ন পাইয়ে দেয়া, প্রার্থীদের আর্থিক দৈন্যদশা, স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের সঙ্গে সমন্নয়হীনতা, অর্থের বিনিময়ে আ’লীগের বিদ্রোহ প্রার্থী ও বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ নেয়াকেই দায়ী করছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

নির্বাচনে ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে চেয়ারম্যান পদে ধুনট সদর, এলাঙ্গী, নিমগাছী ও মথুরাপুর ইউনিয়নে নৌকার প্রার্থী বিজয় হলেও অন্য ৬ ইউনিয়নে বিএনপির স্বতন্ত্র ৪ জন এবং ১ জন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহ প্রার্থী ও ১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন।

নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা হলেন, ১ নং নিমগাছী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সোনিতা নাসরিন (নৌকা) ৬ হাজার ১৮৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী রুহুল আমিন (অটো রিকসা) পেয়েছেন ৪ হাজার ৫৮২ ভোট।

এছাড়া অন্য প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র আলেক উদ্দিন মন্ডল (দুটি পাতা) ২ হাজার ৯৫৫ ভোট, আজাহার আলী পাইকার (ঘোড়া) ১ হাজার ৬১৫ ভোট, নবাব আলী মন্ডল (চশমা) ১ হাজার ৯৪১ ভোট, শাহাদত হোসেন (আনারস) ৯০৪ ভোট এবং জহুরুল ইসলাম (মোটরসাইকেল) ৩৫৬ ভোট পেয়েছেন।

২নং কালেরপাড়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাজ্জাদ হোসেন শিপন (মোটরসাইকেল) ৮ হাজার ৮৩৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হারেজ উদ্দিন আকন্দ (নৌকা) পেয়েছেন ৬ হাজার ৮৮১ ভোট।

৩নং চিকাশী ইউনিয়নে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকির হোসেন জুয়েল (মোটরসাইকেল) ৪ হাজার ১৭৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আরিফুর রহমান (ঘোড়া) পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৩০ ভোট।

এই ইউনিয়নে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র আব্দুর রাজ্জক (চশমা) ৩ হাজার ২৮৬ ভোট, শামসুজ্জোহা বেলাল (আনারস) ২ হাজার ৪৬৪ ভোট, আওয়ামীলীগ মনোনীত প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান নাজমুল কাদির শিপন (নৌকা) ১ হাজার ৭৮৫ ভোট, স্বতন্ত্র আব্দুর রাজ্জাক আকন্দ (দুটি পাতা) ৬৪৫ ভোট, মাজবুবুর রহমান (টেবিল ফ্যান) ১০৪ ভোট পেয়েছেন।

৪নং গোসাইবাড়ী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহ প্রার্থী মাসুদুল হক বাচ্চু (ঘোড়া) ৫ হাজার ১০২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শামছুল বারী (নৌকা) পেয়েছেন ৪ হাজার ৫৩২ ভোট।

এই ইউনিয়নে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র হারুনর রশিদ (আনারস) ৪ হাজার ৩৭৯ ভোট, বিএনপির স্বতন্ত্র বর্তমান চেয়ারম্যান মঈনুল হাসান মুকুল (চশমা) ২ হাজার ৪৯১ ভোট, রাশেদুজ্জামান উজ্জল (মোটরসাইকেল) ১ হাজার ৭০৭ ভোট, জিয়াউল আলম (অটো রিকসা) ১৮২ ভোট পেয়েছে।

৫নং ভান্ডারবাড়ী ইউনিয়নে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী বেলাল হোসেন বাবু (মোটরসাইকেল) ৫ হাজার ৮৭৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান আতিকুল করিম আপেল (আনারস) পেয়েছেন ৩ হাজার ৯১৩ ভোট।

এই ইউনিয়নে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী আনোয়ার পারভেজ রুবন (নৌকা) পেয়েছেন ১ হাজার ২৪৫ ভোট।

৬নং ধুনট সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এসএম মাসুদ রানা (নৌকা) ৯ হাজার ৯৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহ প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মন্টু (মোটরসাইকেল) পেয়েছেন ৬ হাজার ৭০০ ভোট।

এই ইউনিয়নে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র আলমগীর আজাদ (আনারস) ১ হাজার ৬৫১ ভোট এবং শাহানুর আলম টগর (ঘোড়া) পেয়েছেন ১০১ ভোট।

৭নং এলাঙ্গী ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তাজাম্মেল হক (নৌকা) ৩ হাজার ৭৮৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী শামুদ্দোহা সম্রাট (মোটরসাইকেল) পেয়েছেন ৩ হাজার ৫২১ ভোট।

এই ইউনিয়নে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে বিএনপির স্বতন্ত্র আতাউর রহমান পলাশ (মোটরসাইকেল) ৩ হাজার ৭৪ ভোট, আওয়ামী লীগের বিদ্রোহ বর্তমান চেয়াম্যান এমএ তারেক চেয়ারম্যান (আনারস) ২ হাজার ৮৪৩ ভোট, ইসালামী আন্দোলনের প্রার্থী আসাদুল শেখ (হাত পাখা) ২৬০ ভোট এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী মাসুদ রানা (চশমা) পেয়েছেন ১৫ ভোট।

৮নং চৌকিবাড়ী ইউনিয়নে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসানুল করিম পটু (আনারস) ৭ হাজার ৪২৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী কুদরত ই খুদা জুয়েল (নৌকা) পেয়েছেন ৫ হাজার ২৬১ ভোট।

এই ইউনিয়নে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র মকবুল হোসেন (ঘোড়া) ৪ হাজার ৫৬২ ভোট এবং ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মজনু শেখ (হাতপাখা) ২৯৫ ভোট পেয়েছেন।

৯নং মথুরাপুর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাসান আহমেদ জেমস মল্লিক (নৌকা) ১১ হাজার ৫৪৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী শফিকুল ইসলাম (আনারস) পেয়েছেন ৬ হাজার ৭৮৫ ভোট।

এই ইউনিয়নে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে স্বতন্ত্র মাহফুজুর রহমান (মোটরসাইকেল) ৯৮৭ ভোট, মোহাম্মদ আলী (ঘোড়া) ৭০৯ ভোট, জাতীয় পার্টির প্রার্থী খাদেমুল ইসলাম (লাঙ্গল) ১৫৫ ভোট এবং জাকের পাটির প্রার্থী এমএ রাজ্জাক (গোলাপফুল) ১২৭ ভোট পেয়েছেন।

১০নং গোপালনগর ইউনিয়নে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম (আনারস) ১১ হাজার ৭৫৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী শাহ আলম (নৌকা) পেয়েছেন ৩ হাজার ৬৭৪ ভোট।

এই ইউনিয়নে অন্য প্রার্থীদের মধ্যে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী তরিকুল ইসলাম (হাতপাখা) ১ হাজার ৪৭৭ ভোট এবং জাকের পার্টির প্রার্থী ওমর আলী (গোলাপ ফুল) ১৫৮ ভোট পেয়েছেন।

নৌকার ভরাডুবির বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতৃবৃন্দ বলেন, অগ্রহনযোগ্য ব্যক্তিদের নৌকা মার্কার মনোনয়ন পাইয়ে দেয়া, প্রার্থীদের আর্থিক দৈন্যদশা, স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের সঙ্গে সমন্নয়হীনতা, অর্থের বিনিময়ে বিদ্রোহ প্রার্থী ও বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষ নেয়ার কারনেই নৌকার পরাজয় হয়েছে। যাযাদি

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
নিউজটি পড়েছেন 1814 জন

আর্কাইভস