সর্বশেষ:

ধুনটে এমপির স্বাক্ষর জালিয়াতি, অভিযোগের তীর বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে »

ধুনটে এমপির স্বাক্ষর জালিয়াতি, অভিযোগের তীর বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

ধুনট উপজেলায় বিএনপির এক নেতার বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদ সদস্যের (এমপি) স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ডিও লেটার তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এমপির ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) কোরবান আলী মিলন বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন।

শনিবার ধুনট থানার এসআই আসাদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগটি থানায় সাধারণ ডায়েরি হিসেবে রেকর্ড করে তদন্ত করা হচ্ছে। পরবর্তী সময়ে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ঝিনাই ফাজিল মাদ্রাসার ব্যবস্থা কমিটি গঠনের জন্য একজন বিদ্যোৎসাহী সদস্য মনোনয়ন নেওয়া

প্রয়োজন। বিধি মোতাবেক এমপির ডিও লেটারের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যোৎসাহী সদস্য মনোনীত করা হয়। এ অবস্থায় বগুড়া-৫ আসনের (শেরপুর-ধুনট) সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ হাবিবর রহমানের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে আবদুল লতিফ ভুলু নামে বিএনপির এক নেতাকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য মনোনয়ন দিয়ে ডিও লেটার তৈরি করা হয়। বিদ্যোৎসাহী সদস্য পদ অনুমোদনের জন্য ২০২১ সালের ২৪ ডিসেম্বর এমপি স্বাক্ষরিত এই ডিও লেটারটি ঢাকা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাঠানো হয়।

আবদুল লতিফ ভুলু উপজেলার বড় চাপড়া গ্রামের ইসমাইল হোসেনের ছেলে। তিনি চিকাশি ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য।

ডিও লেটারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য ঢাকা মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্যের কাছে ফোন করা হয়। তখন বিষয়টি সংসদ সদস্যের নজরে আসে। এ ঘটনায় এমপির ব্যক্তিগত সহকারী কোরবান আলী মিলন বাদী হয়ে ৯ ফেব্রুয়ারি থানায় অভিযোগ করেন।

এ বিষয়ে আবদুল লতিফ ভুলু জানান, সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ডিও লেটার তৈরি করে আমাকে বিদ্যোৎসাহী সদস্য মনোনীত করার বিষয়টি আমি থানা পুলিশের কাছ থেকে জেনেছি। তবে এ ঘটনার সঙ্গে আমি জড়িত না। এ ধরনের কোনো কিছু ঘটে থাকলে তা মাদ্রাসার অধ্যক্ষ বলতে পারবেন।

এদিকে সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস ও থানায় অভিযোগের বিষয়টি জানার পর থেকে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আমান উল্লাহ পলাতক রয়েছেন। তার সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এ ছাড়া একই এলাকায় মাজবাড়ি গ্রামে তার বাড়িতে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।

ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, সংসদ সদস্যের স্বাক্ষর জালিয়াতির মাধ্যমে ডিও লেটার তৈরির অভিযোগটি তদন্তের জন্য পুলিশ কর্মকর্তা (এসআই) আসাদুজ্জামানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
নিউজটি পড়েছেন 804 জন

আর্কাইভস