সর্বশেষ:

ধুনটে মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষক গ্রেপ্তার »

ধুনটে মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ, শিক্ষক গ্রেপ্তার

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে থানা-পুলিশ ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে শিক্ষক হাফেজ আবু তালেবকে (২৮) বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠিয়েছে। 

আবু তালেব উপজেলার পাঁচথুপি গ্রামের শামছুল ইসলামের ছেলে। 

এর আগে বুধবার উপজেলার পাঁচথুপি বাজার এলাকায় মারকাযুশ শরইয়্যাহ হাফিজিয়া ক্বওমিয়া মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষ থেকে শিক্ষক হাফেজ আবু তালেবকে স্থানীয় জনতা আটক করে থানায় সোপর্দ করে। 

ধুনট থানার এসআই আসাদুজ্জামান বলেন, জনতার হাতে আটক আবু তালেবকে যৌন উৎপীড়নের মামলা গ্রেপ্তার দেখিয়ে বগুড়া কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এলাকায় পরিবেশ শান্ত রয়েছে। 

অভিযুক্ত শিক্ষক হাফেজ আবু তালেব বলেন, ‘সন্তানের মতো আদর করার সময় শিশুটির গালে চুমু ও গায়ে হাত বুলিয়ে দিয়েছি। কোন প্রকার অনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল না। ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’ 

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালে উপজেলার পাঁচথুপি বাজার এলাকায় এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন বিষ্ণুপুর গ্রামের মাওলানা মাসুদুর রহমান। প্রতিষ্ঠানটিতে ছেলে ও মেয়েদের পৃথকভাবে আবাসিক ও অনাবাসিক পাঠদান করা হয়। প্রতিষ্ঠানে ৪ জন নারী শিক্ষক ও ২ জন পুরুষ শিক্ষক রয়েছে। প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শতাধিক শিক্ষার্থী সেখানে লেখাপড়া করে। 

প্রতিষ্ঠানটিতে সহকারী শিক্ষক হিসেবে পাঠদান করান হাফেজ আবু তালেব। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি পার্শ্ববর্তী নসরৎপুর গ্রামের একটি মসজিদে ইমামতি করেন। দুই সন্তানের জনক আবু তালেব প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে সেখানে শিক্ষকতা করে আসছেন। 
 
অন্যান্য দিনের ন্যায় বুধবার সকাল ১১টার দিকে আবু তালেব শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময় এক ছাত্রীকে (৬) আদর করার কৌশল হিসেবে কাছে ডেকে নিয়ে যৌন হয়রানি করে। পাঠদান শেষে ওই শিশু শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে তার বাবার নিকট ঘটনাটি খুলে বলে। 

এ সময় বিষয়টি নিয়ে অভিভাবকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে আবু তালেবকে আটক করে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। সংবাদ পেয়ে থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আবু তালেবকে থানা হেফাজতে নেয়। 

এ ঘটনায় ওই শিশু শিক্ষার্থীর বাবা বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। এ ছাড়া ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় শ্রেণির দুই শিশু ও প্রথম শ্রেণির এক শিশু শিক্ষার্থীকে একই কৌশলে শিক্ষক আবু তালেব যৌন হয়রানি করেছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। 

ওই মাদ্রাসার পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক মাওলানা মাসুদুর রহমান বলেন, কয়েক দিন আগে এ ধরনের অভিযোগের ভিত্তিতে আবু তালেবকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে। তিনি ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চেয়ে দায়িত্বে বহাল রয়েছেন। এরপর আবারও একই ঘটনা ঘটিয়েছে। আজকের পত্রিকা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
নিউজটি পড়েছেন 647 জন

আর্কাইভস