সর্বশেষ:

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালাকে পাবনায় বদলি »

ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালাকে পাবনায় বদলি

ধর্ষণ মামলার আলামত নষ্ট করার অভিযোগ ওঠা বগুড়ার ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালাকে পাবনায় বদলি করা হয়েছে। রোববার পুলিশের রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল বাতেন স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাঁকে পাবনা জেলায় বদলি করা হয়।

একই আদেশে গাবতলী মডেল থানার ওসি সিরাজুল ইসলামকে জয়পুরহাটে বদলি করা হয়। তবে তাঁকে বদলির কারণ জানা যায়নি।

ওসি কৃপা সিন্ধু বালার বিরুদ্ধে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলার আলামত নষ্টের অভিযোগ এনে ২ আগস্ট স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বগুড়ার পুলিশ সুপারের (এসপি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন মামলার বাদী। অভিযোগটি আমলে নিয়ে এসপি তাৎক্ষণিককে ওসিকে মামলার তদন্তের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেন। একই সঙ্গে বিষয়টি তদন্তে বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আবদুল রশিদকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়।  

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুর রশিদ রোববার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ওসি কৃপা সিন্ধু বালাকে পাবনায় বদলি করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে মুঠোফোন থেকে ধর্ষণের আলামত মুছে ফেলার অভিযোগের তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। জব্দ করা মুঠোফোন সিআইডির সদর দপ্তরে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে তদন্তও শেষ করা হবে।

মামলার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার জালশুকা হাবিবর রহমান ডিগ্রি কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের শিক্ষক মুরাদুজ্জামান ওরফে মুকুল (৪৮) গত বছরের অক্টোবরে ধুনট উপজেলার একটি এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। সেখানে তিনি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বসবাস করতেন। ওই বাসার মালিকের মেয়ে স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। ওই ছাত্রীর মা-বাবা পেশাগত কারণে বেশির ভাগ সময় বাসার বাইরে থাকেন। ওই শিক্ষকের স্ত্রীও কর্মসূত্রে দিনে বাইরে থাকেন। এ সুযোগে মুরাদুজ্জামান একদিন কৌশলে ওই স্কুলছাত্রীকে জড়িয়ে ধরে মুঠোফোনে ছবি তোলেন। এরপর ওই ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে কয়েকবার ধর্ষণ করেন।

১২ মে আবারও ধর্ষণের চেষ্টা করলে ওই ছাত্রী চিৎকার দেয়। এ সময় স্বজনেরা ছুটে এলে মুরাদুজ্জামান পালিয়ে যান। এরপর ওই ছাত্রীর কিছু অশালীন ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেন তিনি। পরে ছাত্রীর মা বাদী হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে গত ১২ মে ধুনট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। ওই মামলায় পুলিশ মুরাদুজ্জামানকে গ্রেপ্তার ও অশালীন ভিডিও ধারণ করা মুঠোফোন জব্দ করে। মুরাদুজ্জামান বর্তমানে বগুড়া কারাগারে।

বাদীর লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব নিয়েছিলেন ধুনট থানার ওসি কৃপা সিন্ধু বালা নিজেই। ১৮ মে আসামি মুরাদুজ্জামানকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদে তাঁর হেফাজত থেকে আরও একটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়। ওই মুঠোফোনে পাওয়া কয়েকটি অশালীন ভিডিও ক্লিপ সিডিতে কপি করে নেন ওসি। এসব সিডি ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য সিআইডিতে পাঠানোর কথা।

সিডিগুলো না পাঠিয়ে শুধু উদ্ধার হওয়া দুটি মুঠোফোন সিআইডিতে পাঠান ওসি কৃপা সিন্ধু। আসামিপক্ষের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নিয়ে তিনি মামলার আলামত নষ্ট করান। গত ১৯ মে জব্দ করা মুঠোফোন দুটি আদমদীঘি থানার একজন উপপরিদর্শকের কাছে পাঠিয়ে ফোনে থাকা সব ভিডিও ক্লিপ ও তথ্য মুছে ফেলা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

হত্যা পরিকল্পনার অভিযোগ
এদিকে ওসি কৃপা সিন্ধু বালার বিরুদ্ধে ধুনটা উপজেলার বেড়েরবাড়ি গ্রামের আরিফুল ইসলাম ওরফে হিটলুকে হত্যা পরিকল্পনার অভিযোগ এনে গত সপ্তাহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন এই হত্যা মামলার বাদী ও আরিফুলের স্ত্রী শেফালী খাতুন।

এ অভিযোগের পর ধুনট থানা পুলিশকে সরিয়ে অপরাধ তদন্ত বিভাগকে (সিআইডি) হত্যা মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশ বগুড়া সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।

চলতি বছরের ১৬ এপ্রিল রাতে ধুনট উপজেলার নিমগাছি ইউনিয়নের বেড়েরবাড়ি গ্রামে আরিফুলকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। পরে তাঁর লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে পাশের শাজাহানপুর উপজেলায় একটি কবরে মাটিচাপা দেওয়া হয়। পরদিন ১৭ এপ্রিল লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এরপর ১৯ এপ্রিল তাঁর স্ত্রী শেফালী খাতুন ১৯ জনকে আসামি করে ধুনট থানায় হত্যা মামলা করেন।

লিখিত অভিযোগে শেফালী খাতুন উল্লেখ করেন, হত্যা মামলার ৪ নম্বর আসামি পলাশকে গত ১৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় এক কেজি গাঁজাসহ আটক করে থানায় খবর দেন তাঁর স্বামী আরিফুল। পুলিশ আসার আগেই পলাশ গাঁজা ও মোটরসাইকেল রেখে পালিয়ে যান। পুলিশ গাঁজাসহ মোটরসাইকেল থানায় নিয়ে যান। পরের দিন ওসি কৃপা সিন্ধু মামলা না নিয়ে মোটরসাইকেল ছেড়ে দেন।

ওই ঘটনার জেরে গত ১৬ এপ্রিল বিকেলে পলাশ ও তাঁর শ্বশুর জাহাঙ্গীরসহ কয়েকজন ওসি কৃপা সিন্ধু বালার কক্ষে বসে আরিফুলকে খুনের পরিকল্পনা করেন। আরিফুলকে হত্যার ঘটনায় থানায় গেলে ওসি কৃপা সিন্ধু মামলা না নিয়ে বলেন, আরিফুল গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন। ১৯ এপ্রিল থানায় মামলা রেকর্ড হলেও ওসি আসামিদের গ্রেপ্তার না করে পালিয়ে যেতে সহযোগিতা করেন।

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
নিউজটি পড়েছেন 779 জন