সর্বশেষ:

ধুনটে অবৈধভাবে মাটি কাটছিলেন আ.লীগ নেতা, অভিযান দেখে সটকে পড়লেন »

ধুনটে অবৈধভাবে মাটি কাটছিলেন আ.লীগ নেতা, অভিযান দেখে সটকে পড়লেন

বগুড়ার ধুনটে আওয়ামী লীগ নেতা সামেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে খননযন্ত্র দিয়ে ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে বিক্রির অভিযোগে উঠেছে। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে মাটি কাটা কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সকাভেটর ও তিনটি ট্রাক্টর জব্দ করেছে। তবে অভিযানের খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে আগেই পালিয়ে গেছেন অভিযুক্ত ওই আওয়ামী লীগ নেতা।

আজ রোববার দুপুর ১২টার দিকে থানা–পুলিশের সহযোগিতায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী হাকিম সঞ্জয় কুমার মহন্ত। এ সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন চৌকিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারমান হাসানুল করিম। অভিযুক্ত সামেদুল ইসলাম চৌকিবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক।

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার চৌকিবাড়ি ইউনিয়নের বহালগাছা গ্রামের একটি মাঠে আওয়ামী লীগ নেতা সামেদুল ইসলামের ৮০ শতক তিন ফসলি জমি আছে। ওই জমির চারপাশ দিয়ে বহালগাছা গ্রামের আরিফুল ইসলাম, বেলাল হোসেন, আবদুস সাত্তার, খোকা খান, ঝন্টু মিয়া ও আবদুর রশিদ নামের কয়েকজন কৃষকের ফসলি জমি আছে। এর মধ্যে এক সপ্তাহ ধরে সামেদুল ইসলাম খননযন্ত্র দিয়ে তাঁর জমিতে প্রায় ১০ ফুট গভীর করে অবৈধভাবে মাটি কেটে বিভিন্ন ইটভাটার মালিকের কাছে বিক্রি করছিলেন। এতে ভাঙনের কবলের পড়েছেন ওই জমির আশপাশের কৃষকেরা। এ অবস্থায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা গতকাল শনিবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে প্রতিকার চেয়ে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেন।

অভিযোগের ভিত্তিতে আজ দুপুরের দিকে সাদেমুল ইসলামের ওই জমিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান চালানো হয়। তবে অভিযানের খবর পেয়ে সামেদুল ইসলাম ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে উপজেলা ইউএনও সঞ্জয় কুমার মহন্ত ঘটনাস্থল থেকে এক্সকাভেটর ও ট্রাক্টর জব্দ করেন।

অভিযুক্ত সামেদুল ইসলাম মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘মাছ চাষের জন্য আমি নিজের জমি খনন করে পুকুর কাটছি, সেই মাটি বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করছি। এতে কারও কোনো ক্ষতি হয়নি। শক্রতা করে পাশের জমির মালিকেরা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছে।’

চৌকিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসানুল করিম প্রথম আলোকে বলেন, ওই জমির আশপাশের জমির মালিকেরা প্রান্তিক কৃষক। মাঠের মাঝখানে গভীর খনন করায় চারদিকের জমি ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে। তাই বাধ্য হয়েই কৃষকেরা জমি রক্ষা করতে প্রতিকার চেয়ে ইউএনওর কাছে মৌখিকভাবে অভিযোগ করেছেন।

ইউএনও সঞ্জয় কুমার মহন্ত প্রথম আলোকে বলেন, খননযন্ত্র দিয়ে ফসলি জমি থেকে গভীরভাবে খনন করে মাটি কাটার কোনো বৈধতা নেই। খবর পেয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালানো হয়েছে। কিন্তু অভিযুক্ত ব্যক্তি ঘটনাস্থলে না থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি। তবে মাটি কাটা কাজে ব্যবহৃত তিনটি ট্রাক্টর ও একটি এক্সকাভেটর জব্দ করা হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। প্রথম আলো

নিউজটি পড়েছেন 242 জন

সর্বশেষ সংবাদ